মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

পুতিনের সাথে আলোচনায় প্রস্তুত জেলেনস্কি

পুতিনের সাথে আলোচনায় প্রস্তুত জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ অবসানে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তান্বুলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাতের জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি এক পোস্টে এ কথা বলেছেন। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কে সরাসরি আলোচনায় বসতে পুতিন যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে।

সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

জেলেনস্কি লেখেন, ‘হত্যাকাণ্ডকে প্রলম্বিত করার কোনো কারণ নেই। বৃহস্পতিবার আমি ব্যক্তিগতভাবে তুরস্কে পুতিনের জন্য অপেক্ষা করব।’

এর আগে তিনি বলেছিলেন, তার দেশ রাশিয়ার সাথে আলোচনায় রাজি কিন্তু সেটি হবে কেবলমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর।

পাশ্চাত্যের শক্তিগুলো কিয়েভের বৈঠকের পর সোমবার থেকেই ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের তথাকথিত ‘কোয়ালিশন অফ উইলিং’ শনিবার ওই বৈঠক করেছিল। এরপর পুতিন সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ইউক্রেনের অবিলম্বে এই প্রস্তাবে রাজি হওয়া উচিত এবং এটি যুদ্ধ বন্ধ করার উপায় বের করতে একটি ধারণা দেবে।

তিনি লেখেন, ‘কমপক্ষে তারা বুঝতে পারবে যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি-না, এবং তা না হলে ইউরোপীয় নেতারা এবং যুক্তরাষ্ট্র জানতে পারবে যে সঙ্কটটা কোথায় আটকে আছে এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হতে পারবে।’

এক্সে দেয়া পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, রাশিয়া আলোচনার আগেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে তিনি আশা করছেন। কূটনীতির জন্য দরকারি ভিত্তি তৈরি করতে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই যুদ্ধবিরতির জন্য অপেক্ষা করছি, যা কাল থেকেই শুরু হবে।

শনিবার গভীর রাতে দেয়া এক বক্তৃতায় পুতিন ইউক্রেনকে যুদ্ধ বিষয়ে সিরিয়াস আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

পুতিন বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন যুদ্ধবিরতির বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তিনি ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

রাশিয়ান নেতা বলেছেন, ‘ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নতুন অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া, পরিখা তৈরি কিংবা নতুন কমান্ড পোস্ট স্থাপনের পর একটি প্রলম্বিত যুদ্ধের দিকে যাওয়ার বদলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তির জন্য এটাই হবে প্রথম পদক্ষেপ।

মস্কো এর আগে বলেছিল, রাশিয়া যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে কিন্তু তার আগে পাশ্চাত্যদের ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া স্থগিত করতে হবে।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কিয়েভে যে বৈঠকের আয়োজক ছিলেন, তাতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির ফ্রিডরিখ মেৎস ও পোল্যান্ডের ডোনাল্ড টাস্ক উপস্থিত ছিলেন। পরে টাস্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

স্যার কিয়ের পরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পুরোপুরি বুঝেছেন যে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব সেটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

জেলেনস্কির সাথেই এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করেছেন যে একটি ‘নতুন ও বড় আকারের’ নিষেধাজ্ঞা আসবে রাশিয়ার জ্বালানি ও ব্যাংক খাতের ওপর যদি পুতিন ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত না হন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি শেষ আলোচনা হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে ইস্তান্বুলে। এর তিন বছর পর এখন আবার দু’পক্ষই সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হলো। যদিও আলোচনা ও চুক্তি দু’টি আলাদা বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com